SKU: pakhalinama_পাখালিনামা_rupangkar_w

পাখালিনামা

আমাদের শহর কলকাতায়, বেশ কিছু সবুজ জায়গা ছিল একসময়ে। শহরের মানুষের নিজস্ব বাড়ির গাছপালার কথা ছেড়েই দিচ্ছি, এ শহরে পার্ক এবং খোলা জায়গা ছিল অনেক। সবচেয়ে বড় জায়গা ছিল কলকাতা ময়দান, তার লাগোয়া কার্জন পার্ক, ও পাশে ইডেন গার্ডেন। কলকাতা ময়দানের বিভিন্ন অংশে ক্লাব ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের অস্থায়ী নির্মাণ, সরকারি জবরদখল, রাস্তার প্রশস্তকরণ, সৌন্দর্যায়ণ, ইত্যাদি কারণে অনেকটাই সবুজ নষ্ট হয়ে গেছে। শুধু অস্থায়ী বইমেলা স্থানান্তরিত করে সে সমস্যা মেটার কথা নয়। কার্জন পার্কে একসময়ে অফিস ফেরতা মানুষ বিশ্রাম নিতে যেতেন। সত্যজিত রায়ের বিখ্যাত ছবি ‘পরশ পাথর’ অনেকেরই দেখা। সেই কার্জন পার্ক এখন দিনের বেলাতেই লোকে এড়িয়ে চলেন। তার একটা দিকের বিশাল অংশ এখন সাধারণ-উন্মুক্ত- প্রস্রাবাগার, কিছু অংশে রাস্তা, হকার, এবং আরও নানাবিধ উপায়ে দখল, কিছু অংশে বেঢপ ও নান্দনিক দিক থেকে পীড়াদায়ক মূর্তি, কিছু অংশে জুয়াড়ি, মাদকাশক্ত, ও দেহপসারিনীদের ভিড়। ইডেন গার্ডেনেও লোকে বেড়াতে যেত এককালে, আমি নিজেও যেতাম বাবার হাত ধরে ছেলেবেলায়। সে বাগানের এখনকার বর্ণনা দিয়ে নিজের মনকে পীড়া আর দিতে চাইনা। এই সব বাগানই ছিল বহু ধরণের পাখি ও কিছু ছোট পশুদেরও আশ্রয়। তারা এখন যায় কোথায়? কলকাতার বুকে অনেক পার্ক ছিল, তাতে অনেক গাছ ছিল, ছিল পাখিদের বিশ্রাম ও আহারের জায়গা। কলকাতার বিভিন্ন অঞ্চলে গেলে কিছু পার্কের নাম শোনা যাবে কিন্তু তাদের দেখা পাওয়া যাবেনা। দক্ষিণ কলকাতায় ‘একডালিয়া পার্ক’ এখন ইতিহাস। কালীঘাট পার্কের অন্ততঃ ঘেরা জায়গা টুকু আছে কিন্তু সেখানে শুধুই কংক্রীট। এ তালিকা বড়ই লম্বা, বিস্তারিত লিখে কাজ নেই। দক্ষিণ-মধ্য কলকাতায় মিন্টো পার্ক, দক্ষিণ কলকাতার রবীন্দ্র সরোবর, সৌন্দর্যায়নের ঠেলায় এখন গ্রীন ডেসার্ট। তার ওপর যানবাহনের নিঃসৃত বায়ুদূষণ এখন সহ্যসীমার অনেক ওপরে। পাখিদের খাওয়ার মত ফল ধরত যে সব গাছে, তাদের প্রায় কিছুই নেই। নতুন করে যে সব গাছ লাগান হয়েছে তার বেশির ভাগই বিদেশি এবং তাড়াতাড়ি বড় হয়, এমন গাছ। তাতে না ফোটে ফুল, না ধরে ফল। কলকাতায় এককালে ছেষট্টি রকমের পাখি দেখা যেত, এখন সংখ্যাটা ভয়াবহ রকমের কম। ফিরে দেখা কলকাতার পরিবেশের ইতিহাস চর্চা সেই সুবাদে ঝালিয়ে নেওয়া মানুষ ও পাখির সম্পর্ক। রবীন্দ্রনাথ-জীবনানন্দের রোমান্টিক চর্চা আর একালের বার্ড ওয়াচার সকলের দিকেই দাগা হল শক্তিশেল।

৳ 810

In stock (can be backordered)

Categories: ,
Tag:

আমাদের শহর কলকাতায়, বেশ কিছু সবুজ জায়গা ছিল একসময়ে। শহরের মানুষের নিজস্ব বাড়ির গাছপালার কথা ছেড়েই দিচ্ছি, এ শহরে পার্ক এবং খোলা জায়গা ছিল অনেক। সবচেয়ে বড় জায়গা ছিল কলকাতা ময়দান, তার লাগোয়া কার্জন পার্ক, ও পাশে ইডেন গার্ডেন। কলকাতা ময়দানের বিভিন্ন অংশে ক্লাব ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের অস্থায়ী নির্মাণ, সরকারি জবরদখল, রাস্তার প্রশস্তকরণ, সৌন্দর্যায়ণ, ইত্যাদি কারণে অনেকটাই সবুজ নষ্ট হয়ে গেছে। শুধু অস্থায়ী বইমেলা স্থানান্তরিত করে সে সমস্যা মেটার কথা নয়। কার্জন পার্কে একসময়ে অফিস ফেরতা মানুষ বিশ্রাম নিতে যেতেন। সত্যজিত রায়ের বিখ্যাত ছবি ‘পরশ পাথর’ অনেকেরই দেখা। সেই কার্জন পার্ক এখন দিনের বেলাতেই লোকে এড়িয়ে চলেন। তার একটা দিকের বিশাল অংশ এখন সাধারণ-উন্মুক্ত- প্রস্রাবাগার, কিছু অংশে রাস্তা, হকার, এবং আরও নানাবিধ উপায়ে দখল, কিছু অংশে বেঢপ ও নান্দনিক দিক থেকে পীড়াদায়ক মূর্তি, কিছু অংশে জুয়াড়ি, মাদকাশক্ত, ও দেহপসারিনীদের ভিড়। ইডেন গার্ডেনেও লোকে বেড়াতে যেত এককালে, আমি নিজেও যেতাম বাবার হাত ধরে ছেলেবেলায়। সে বাগানের এখনকার বর্ণনা দিয়ে নিজের মনকে পীড়া আর দিতে চাইনা। এই সব বাগানই ছিল বহু ধরণের পাখি ও কিছু ছোট পশুদেরও আশ্রয়। তারা এখন যায় কোথায়? কলকাতার বুকে অনেক পার্ক ছিল, তাতে অনেক গাছ ছিল, ছিল পাখিদের বিশ্রাম ও আহারের জায়গা। কলকাতার বিভিন্ন অঞ্চলে গেলে কিছু পার্কের নাম শোনা যাবে কিন্তু তাদের দেখা পাওয়া যাবেনা। দক্ষিণ কলকাতায় ‘একডালিয়া পার্ক’ এখন ইতিহাস। কালীঘাট পার্কের অন্ততঃ ঘেরা জায়গা টুকু আছে কিন্তু সেখানে শুধুই কংক্রীট। এ তালিকা বড়ই লম্বা, বিস্তারিত লিখে কাজ নেই। দক্ষিণ-মধ্য কলকাতায় মিন্টো পার্ক, দক্ষিণ কলকাতার রবীন্দ্র সরোবর, সৌন্দর্যায়নের ঠেলায় এখন গ্রীন ডেসার্ট। তার ওপর যানবাহনের নিঃসৃত বায়ুদূষণ এখন সহ্যসীমার অনেক ওপরে। পাখিদের খাওয়ার মত ফল ধরত যে সব গাছে, তাদের প্রায় কিছুই নেই। নতুন করে যে সব গাছ লাগান হয়েছে তার বেশির ভাগই বিদেশি এবং তাড়াতাড়ি বড় হয়, এমন গাছ। তাতে না ফোটে ফুল, না ধরে ফল। কলকাতায় এককালে ছেষট্টি রকমের পাখি দেখা যেত, এখন সংখ্যাটা ভয়াবহ রকমের কম। ফিরে দেখা কলকাতার পরিবেশের ইতিহাস চর্চা সেই সুবাদে ঝালিয়ে নেওয়া মানুষ ও পাখির সম্পর্ক। রবীন্দ্রনাথ-জীবনানন্দের রোমান্টিক চর্চা আর একালের বার্ড ওয়াচার সকলের দিকেই দাগা হল শক্তিশেল।

There are no reviews yet.

Be the first to review “পাখালিনামা”

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Updating…
  • No products in the cart.
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial